বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট আইন, ২০১১
( ২০১১ সনের ১৯ নং আইন )
  [ডিসেম্বর ১, ২০১১]
     
     
বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করিবার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে প্রণীত আইন
 
যেহেতু বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করিবার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট স্থাপন এবং এতদ্‌সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
   
 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট আইন, ২০১১ নামে অভিহিত হইবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে।

* এস, আর, ও নং ৪৬-আইন/২০১২, তারিখ: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ইং দ্বারা ০৩ ফাল্গুন, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ উক্ত আইন কার্যকর হইয়াছে।
   
   
 
সংজ্ঞা  
২ । বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে -

(১) ‘‘চেয়ারম্যান’’ অর্থ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান;

(২) ‘‘ট্রাস্ট’’ অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট;

(৩) ‘‘তহবিল’’ অর্থ ধারা ১০ এ উল্লিখিত ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট তহবিল’;

(৪) ‘‘প্রবিধান’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(৫) ‘‘ট্রাস্টি বোর্ড’’ অর্থ ধারা ৭ এর অধীন গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড;

(৬) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(৭) ‘‘সদস্য’’ অর্থ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য।
   
   
 
ট্রাস্ট গঠন  
৩। (১) এই আইন বলবৎ হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব সরকার এই আইনের বিধান অনুযায়ী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করিবে।

(২) ট্রাস্ট একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার ও হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
   
   
 
ট্রাস্টের কার্যালয়  
৪। (১) ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে।

(২) ট্রাস্টি বোর্ড প্রয়োজনবোধে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, বাংলাদেশের যে কোন স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
   
   
 
ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য  
৫। ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-

(ক) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের নিয়মিত ও রুটিন কার্যাবলীর পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী ও সমাজের অন্যান্য শ্রেণীর জনসাধারণের জ্ঞান ও উপলব্ধির প্রসার ঘটানো;

(খ) দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য জাতীয় পর্যায় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় পর্যন্ত নিয়মিত বিজ্ঞান সপ্তাহ উদযাপনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(গ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিজ্ঞানসেবী সংস্থাসমূহকে আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(ঘ) বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান প্রচারাভিযান, বিজ্ঞান কংগ্রেস, বিজ্ঞান সংক্রান্ত কর্মশালা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন এবং উক্তরূপ আয়োজনে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(ঙ) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান শিক্ষকদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(ছ) ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত উদ্ভাবনমূলক কাজে আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(জ) তরুণ বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্টদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম, বিজ্ঞান কংগ্রেস, বিজ্ঞান মেলা, গণিত অলিম্পিয়াড ও অনুরূপ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(ঝ) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিশেষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রবাসী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক বা অধ্যাপকবৃন্দকে স্থানীয় আতিথেয়তা প্রদান;

(ঞ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা প্রদান;

(ট) সার্ক (SAARC)ইয়াং পিপল্‌স সায়েন্স এন্ড বায়োটেকনোলজি কংগ্রেস (দ্বি-বার্ষিক), এশিয়ান ইয়াং পিপল্‌স সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কংগ্রেস (ত্রি-বার্ষিক) আয়োজন এবং অনুরূপ আয়োজনে সহায়তা প্রদান।
   
   
 
প্রশাসন ও পরিচালনা  
৬।ট্রাস্টের সার্বিক পরিচালনা ও প্রশাসন ধারা ৭ এর অধীন গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
   
   
 
ট্রাস্টি বোর্ডের গঠন  
৭। (১) ট্রাস্টি বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-

(ক) বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, যিনি উহার চেয়ারম্যানও হইবেন;

(খ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, যিনি উহার ভাইস- চেয়ারম্যানও হইবেন;

(গ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব/যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন);

(ঘ) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি;

(ঙ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি;

(চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি;

(ছ) অর্থ বিভাগের যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি;

(জ) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি;

(ঝ) বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এর একজন সদস্য;

(ঞ) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক;

(ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত দুইটি শিক্ষা বোর্ডের দুইজন চেয়ারম্যান;

(ঠ) সরকার কর্তৃক মনোনীত দুইজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, যাহাদের মধ্যে একজন মহিলা হইবেন;

(ড) সরকার কর্তৃক মনোনীত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ে বিশিষ্ট দুইজন অধ্যাপক;

(ঢ) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর ক্রমিক নং (ট), (ঠ) ও (ড) এ উল্লিখিত মনোনীত সদস্যগণ মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, প্রয়োজনবোধে, যে কোন সময় তৎকর্তৃক মনোনীত যে কোন সদস্যকে মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে কোন কারণ- দর্শানো ব্যতিরেকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) শুধুমাত্র সদস্যপদে শূন্যতা বা বোর্ড গঠনে ক্রটি থাকিবার কারণে বোর্ডের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না এবং তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না।

(৪) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক ট্রাস্টি বোর্ডের প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবেন।
   
   
 
ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যাবলী  
৮। ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) ট্রাস্টের কার্যক্রম সার্বিকভাবে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ;

(খ) ট্রাস্টের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ;

(গ) ট্রাস্টের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অর্থায়ন;

(ঘ) সরকারের অর্থায়ন ব্যতীত অন্যান্য উৎস হইতে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ, অর্থ প্রাপ্তির উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ;

(ঙ) এই ধারার অধীনে কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য যে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অন্য যে কোন কার্য করা;

(চ) ট্রাস্টের তহবিল হইতে অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন, আবেদন ফরম প্রণয়ন;

(ছ) সময়ে সময়ে সরকার প্রদত্ত নির্দেশনা সাপেক্ষে তাহার উপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।
   
   
 
ট্রাস্টি বোর্ডের সভা  
৯। (১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, ট্রাস্টি বোর্ড উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) ট্রাস্টি বোর্ডের সভা, চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে, চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) চেয়ারম্যান ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) ন্যূনতম প্রতি তিন মাসে একবার অথবা চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে প্রয়োজনে যে কোন সময় সভা আহবান করা যাইবে।

(৫) ট্রাস্টি বোর্ডের সভার কোরামের জন্য মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হইবে, তবে মুলতবী সভার ক্ষেত্রে কোন কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৬) ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় প্রত্যেক সদস্যের একটি করিয়া ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের ক্ষমতা থাকিবে।
   
   
 
ট্রাস্টের তহবিল  
১০। (১) ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ট্রাস্ট তহবিল’ নামে ট্রাস্টের একটি তহবিল থাকিবে এবং উহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথাঃ--

(ক) সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;

(খ) দেশের সকল মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা এবং কারিগরী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এস,এস,সি), উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচ,এস,সি) বা সমমানের পরীক্ষার্থীদের নিকট হইতে ‘‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন ফি’’ বাবদ আদায়কৃত অর্থ;

(গ) সরকার অনুমোদিত দেশী ও বিদেশী উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ;

(ঘ) তহবিলের বিনিয়োগ হইতে আহরিত অর্থ;

(ঙ) ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান।

(২) তহবিল ট্রাস্টের নামে কোন তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা হইবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত পদ্ধতিতে উঠানো যাইবে।

(৩) ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দীর্ঘ মেয়াদী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবে ট্রাস্টের একটি রিজার্ভ ফান্ড সৃষ্টি করা যাইবে এবং উহা হইতে অর্জিত সুদ দ্বারা ট্রাস্টের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ এবং ট্রাস্টের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা হইবে।
   
   
 
ব্যাংক হিসাব  
১১। (১) ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনক্রমে ব্যাংক হিসাব খোলা হইবে এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সদস্য-সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে হিসাব পরিচালিত হইবে।



(২) ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনক্রমে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম সম্পাদিত হইবে।
   
   
 
বাজেট  
১২। ট্রাস্ট প্রত্যেক বৎসর সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী অর্থ বৎসরের বার্ষিক বাজেট বিবরণী (ট্রাস্ট সংক্রান্ত) সরকারের নিকট পেশ করিবে এবং উহাতে উক্ত অর্থ বৎসরে সরকারের নিকট হইতে ট্রাস্টের কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে।
   
   
 
হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা  
১৩। (১) ট্রাস্ট উহার আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে।

(২) বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর ট্রাস্টের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের অনুলিপি সরকার ও বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ট্রাস্টের সকল রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভান্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন।

(৪) প্রত্যেক অর্থ বৎসর শেষ হইবার সংগে সংগে ট্রাস্টি বোর্ড উক্ত অর্থ বৎসরের সম্পাদিত কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত একটি বার্ষিক প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করিবে।

(৫) সরকার প্রয়োজন মত ট্রাস্টি বোর্ডের নিকট হইতে যে কোন সময়ে উহার যে কোন কাজের প্রতিবেদন বা বিবরণী আহবান করিতে পারিবে এবং ট্রাস্টি বোর্ড উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
   
   
 
ক্ষমতা অর্পণ  
১৪।ট্রাস্টি বোর্ড উহার যে কোন ক্ষমতা, প্রয়োজনবোধে এবং নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে, চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্যের নিকট অর্পণ করিতে পারিবে।
   
   
 
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা  
১৫।এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা  
১৬।এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ট্রাস্টি বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদন এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইন বা কোন বিধির সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ নহে এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   
   
 
হেফাজত সংক্রান্ত বিধান  
১৭।১) এই আইনের ধারা ৩ এর অধীন সরকার কর্তৃক ট্রাস্ট গঠিত হইবার পর ১৭-০৫-২০০১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ১৯ নং ট্রাস্ট দলিল দ্বারা গঠিত‘Science and Technology Promotion Trust’অতঃপর বিলুপ্ত ট্রাস্ট বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে।

(২) বিলুপ্ত ট্রাস্টের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ এই আইন দ্বারা গঠিত ট্রাস্টের অনুকূলে ন্যস্ত হইবে।

(৩) বিলুপ্ত ট্রাস্টের অধীন কৃত কোন কার্যক্রম অথবা গৃহীত কোন ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
   
   
 
ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ  
১৮। (১) এই আইন কার্যকর হইবার পর সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
   
   
   
 

Copyright © 2010, Legislative and Parliamentary Affairs Division
Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs